চিত্ত না বিত্ত বড়, এমন প্রশ্নে দ্বিধা আসতে পারে। কারণ ভোগ, বিলাসীতা আমাদেরকে আটক করে রেখেছে চারদিক থেকে। নিজের চিত্তকে আমরা মুক্ত ভাবছি, কিন্তু তা একদম গা ভাসানো। আসলে আমরা ভোগবন্দি। চিত্তের কাছে বিত্ত কিছুই না। এবার আশা জাগাতে একটা ছোট গল্প বলবো। গল্পের নায়ক এদেশের এক তরুণ। পড়ার জন্য সে কীনা এখন অনেক-অনেক-অনেক দূর। তবু মন পড়ে আছে দেশে। চিত্ত থেকে চিত্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার সাহসী চিত্ত।

বলছিলাম মিজানুর রহমান সরকারের কথা। বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর সরকারপাড়া গ্রামে।

পৃথিবী এখন করোনা মহামারীতে ধুঁকছে। আক্রান্ত হয়েছে স্বদেশ। দেশ থেকে অনেক দূর চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে মিজানুর। মানুষের এ বিপদে তারো মন কাঁদে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির জমানো টাকা দিয়েই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

মিজানুর কোনো ধনকুবের বা বড় কোনো ব্যবসায়ী নয়। আর ধনের সঙ্গে সবার মন যোগ হয়না। তার কিন্তু সেটা আছে। আর তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃত্তির টাকা বাঁচিয়ে করোনাভাইরাস টেস্টের ১০০টি কিট কিনে বাংলাদেশে পাঠাবে। তার প্রিয় মাতৃভূমি যেখানে।

চিত্তের সে কথা জানাতেই মিজানুর তার ফেসবুকে লিখেছে, ‘জয়পুরহাটে যাঁরা দায়িত্বশীল আছেন, তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি মিডিয়া মারফত জানতে পারলাম, জয়পুরহাটে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস পরীক্ষার কোনো কিট নেই। তাই আমি চায়না থেকে করোনাভাইরাস টেস্ট করার জন্য কিছু কিট ডোনেট করতে চাই। এ বিষয়ে করণীয় প্রক্রিয়া জানার জন্য জয়পুরহাটে যাঁরা স্বাস্থ্য বিভাগে জড়িত আছেন, তাঁদের সাহায্য কামনা করছি।’

ফেসবুকের এই পোস্ট দেখে মিজানুরের মুঠোফোন নম্বর দিতে বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-কালাই ও ক্ষেতলাল) আসনের সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। পরে নম্বর নিয়ে ওই তরুণের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন হুইপ।

বিষয়টি খুবি মুগ্ধ করে হুইপকে।

মিজানুরকে অভিবাদন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ। পোস্টে লেখেন, ‘একটি ছেলে চায়না থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে যে সে জয়পুরহাটে কিছু করোনা টেস্টিং কিট পাঠাতে চায়। জয়পুরহাটের দায়িত্বশীল কেউ যেন যোগাযোগ করে। বিষয়টি আমার চোখে পড়ায় তাঁকে তাঁর ফোন নম্বর দিতে বলি। সে নম্বর দিলে আমি ফোন করি। সে চায়নার নানথোং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে প্রায় গৃহবন্দী। বাইরে বেরোতে পারে না। কিন্তু দেশের জন্য, এলাকার জন্য তাঁর হৃদয়ের আকুতি অনুভব করে আমি অভিভূত।’

কিটগুলো চীন থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ইউএস বাংলার একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে কিটগুলো দেশে পৌঁছাবে। এরপর হুইপের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে।

হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, মিজানুর ছাড়াও গোলাম রব্বানী নামে অপর একজন ৫০০ কিট পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। সেগুলো দেশে আনার কাজ চলছে।

বিপদে যে পাশে দাঁড়ায় সেই তো মানুষের প্রকৃত বন্ধু। আসুন না আমরা চিত্ত দিয়ে চিত্ত জয় করি।