পুরো পৃথিবী করোনা আতংকে ভুগছে। প্রতিদিনি মৃতের সংখ্যা আর সংক্রমণ বাড়ছে। এ জন্য প্রয়োজন সতর্ক থাকা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। করোনা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে পরামর্শ কোন সূত্র থেকে দেয়া হচ্ছে সেটা আগে ভেবে দেখতে হবে। যাচাই-বাচাই করতে হবে। ভুল পরামর্শ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া যাবেনা।

এখানে আমরা পাঁচটি ভুল পরামর্শের কথা বলবো। যেগুলো খেয়াল রাখা সবার জন্য প্রয়োজন।

১. নি:শ্বাস বন্ধ করে পরীক্ষা

দাবি করা হচ্ছে আপনি যদি ১০ সেকেণ্ড নি:শ্বাস বন্ধ করে থাকেন এবং সেসময় যদি আপনি কোন কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফুসফুসে কোন ফাইব্রোসিস নেই। অর্থাৎ আপনার ফুসফুসের টিস্যু বা কলায় কোন ক্ষতি হয়নি, তা স্বাভাবিকের তুলনায় মোটা হয়ে যায় নি। সোজা কথায় আপনার ফুসফুসে সংক্রমণ নেই।

এ তথ্য আদৌ সঠিক নয়। কারণ ফুসফুসে ফাইব্রোসিস হয়েছে কিনা তা নি:শ্বাস বন্ধ করে পরীক্ষা করা যায় না।

তাছাড়া, ফাইব্রোসিস কোভিড-১৯ সংক্রমণের কোন উপসর্গ নয়। মনে রাখবেন কোভিড নাইনটিনে আক্রান্ত হলে তার প্রধান উপসর্গ হচ্ছে খুবই বেশি জ্বর এবং সঙ্গে একনাগাড়ে কাশি।

২. ঘরে হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার তৈরির প্রণালী

হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য ঘরে বসেই স্যানিটাইজার তৈরির যেসব প্রণালী ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো থেকে সাবধান।

কোন আসবাবপত্র বা টেবিল বা যেসব জিনিসে আপনি হাত দিচ্ছেন – সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য মোছার যেসব বস্তু পাওয়া যায় সেগুলো আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৩. জীবাণুনাশক ভডকা?

ইন্টারনেটে এমন দাবি করা হচ্ছে যে মদ্যপানীয় ‘ভডকা’ জীবাণুনাশকের কাজ করবে।

আদতেই তা নয়। ভডকা-তে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল নেই যা জীবাণু মারার জন্য প্রয়োজন।

৪. কোন কোন ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের আয়ু এক মাস

অনলাইনে ছড়ানো খবরে দাবি করা হচ্ছে কোন সারফেসের ওপর বা যে কোন জায়গার ওপর ভাইরাস এক মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

কোন কঠিন বস্তু থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি ৭২ ঘন্টা পর ব্যাপকভাবে কমে যায়। এটা প্রায় অসম্ভব।

কারণ, সার্স বা মার্স-এর মত করোনাভাইরাসে নিয়ে আগে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, কঠিন কোন জায়গার ওপর যেমন ধাতুর তৈরি, কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোন সারফেসের ওপর করোনাভাইরাসের জীবাণু বেঁচে থাকে প্রায় দু ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ নয় দিন।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সরকার বলেছে কোন কঠিন বস্তু স্পর্শ করলে যেমন টেবিলের ওপর, হ্যাণ্ড রেলিং বা এধরনের অন্য কিছু, সেখান থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি ৭২ ঘন্টা পর ব্যাপকভাবে কমে যায়।

৫. গোমূত্র পান

ভারতে কিছু হিন্দু গোষ্ঠি মনে করে গোমূত্রের এমন কিছু চিকিৎসা গুণ রয়েছে যা করোনাভাইরাস এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন গোমূত্রের এমন কোন গুণ নেই।

তারা বলছেন গোমূত্র যেমন ক্যান্সার সারায় না, তেমনি গোমূত্র কোভিড নাইনটিন ঠেকাতে সক্ষম এমন কোন তথ্যপ্রমাণ নেই।

মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

এরই মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাত ধোয়া বা পরস্পরের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলার মত কিছু নির্দেশাবলী জারি করেছে।